মিলার মামলায় গ্রেপ্তার স্বামী

সংগীতশিল্পী মিলা অনেক দিন থেকেই সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ করছিলেন, তাঁর স্বামী পারভেজ সানজারি তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার মিলা বাদী হয়ে উত্তরা (পশ্চিম) থানায় মারধর ও যৌতুকের অভিযোগে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার নম্বর ৪ (১০) ২০১৭। তাঁর এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতেই পারভেজ সানজারিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পারভেজ সানজারিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি উত্তরা (পশ্চিম) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন। আজ শুক্রবার রাতে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মিলার স্বামী মারধর করে তাঁর হাত ভেঙে দিয়েছেন। তিনি (মিলা) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তিনি আমাদের কাছে অভিযোগ করেছেন। আমরা তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করেছি। আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ রিমান্ড চেয়ে আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত রিমান্ড না দিয়ে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী রোববার আবার আমরা আদালতে রিমান্ডের আবেদন করব।’

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা (পশ্চিম) থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার মামলা হওয়ার পর আমরা আসামি পারভেজ সানজারিকে গ্রেপ্তার করেছি। নারী নির্যাতন দমন আইনে ১১ (খ) ও ১১ (গ) এবং ৫০৬ ধারায় মামলা হয়েছে। মিলার দায়ের করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর পর্যায়ক্রমে কয়েকবার এ ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ৩ অক্টোবর তাঁকে মারধর করা হয়। মিলার বাবা চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর চিকিৎসা হয়।’

আলী হোসেন খান আরও বলেন, মাস তিনেক আগে পারভেজ সানজারির বিরুদ্ধে আরও একবার অভিযোগ করেছিলেন মিলা।

মিলা মামলায় অভিযোগ করেছেন, এর আগে তাঁর স্বামী পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক নিয়েছেন। আরও দশ লাখ টাকা দাবি করেছেন। টাকা না পেয়ে স্বামী তাঁকে মারধর করেছেন। মামলায় মিলার স্বামী একাই আসামি। মামলায় মিলার বাবা সাক্ষী হয়েছেন।

পারভেজ সানজারি একজন পাইলট। বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইনসে পাইলট হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। এর আগে ছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ফাইটার পাইলট। এ বছরের ১২ মে মিলার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। পারভেজ সানজারির সঙ্গে মিলার অনেক দিনের যোগাযোগ। মিলা বললেন, ‌টানা ১০ বছর তাঁরা প্রেম করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *