রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার ব্যক্তিত্ব সৌমিক দাস এর আজ শুভ জন্মদিন

সালটা ১৯৯৪ সাল। ফাঁক পেলেই বন্ধুরা মেতে ওঠে আড্ডায়। উচ্ছল তারুণ্যের সেই সময়ে চার বন্ধুর কিছু করার ইচ্ছা জাগে। দুজন তখন চারুকলার ছাত্র। অন্য দুজনে অন্য বিষয়ে। শিল্পী হওয়ার কারণে এই বন্ধুরা আত্মীয়-পরিজনদের বিয়ে, গায়ে হলুদের সজ্জার কাজ পেয়ে যায়। এই করতে করতে তাদের মনে হয় একটা দোকান নিলে তো মন্দ হয় না। কথা হয় বিভিন্ন মার্কেটের মালিকের সঙ্গে। কিন্তু এজন্য তো টাকা লাগবে। গৌরি সেন পাওয়াই দুষ্কর।

তবুও মনের জোর আর সত্যি সত্যিই কিছু একটা করার যথার্থ অভিপ্রায়েই নারায়ণগঞ্জের শান্তনা মার্কেটের নিচতলায় ১০০ বর্গফুটের ছোট্ট একটা দোকান নেয়া হয়। মাদুর পেতে বসা আর পলিথিন বিছিয়ে জিনিসপত্র রাখা। বিভিন্ন ধরনের জিনিস বিক্রি শুরু।

সময়কে রাঙানোর ব্রতে যাত্রা শুরু হয়ে তা আজও অব্যাহত। পাঠক এতক্ষণ যাকে নিয়ে কথা হচ্ছিল তিনি সৌমিক দাস। রং বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী। আদি রং এখন রং বাংলাদেশ। কথায় বলে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া। এখন সেটাই করছেন নতুন অভিযাত্রী সৌমিক। ফলে খুব অল্প সময়েই রং বাংলাদেশ-এ যোগ হয়েছে একাধিক সাব-ব্র্যান্ড : শ্রদ্ধাঞ্জলি ও আমার বাংলাদেশ।

সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি আর বিভিন্ন পণ্যে বাংলাদেশকে উপস্থাপনার জন্য আমার বাংলাদেশ। এ ছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তিযোগ ঘটেছে ওয়েস্টরং। এই ভুবনেরই বাসিন্দা তিনি। এসব নিয়েই তাঁর কাছে রাখা হয়েছিল কয়েকটি প্রশ্ন। জেনে নেয়া যাক তাঁর উত্তর।

ফ্যাশনের প্রতি ভালবাসার শুরু কিভাবে?

ছেলেবেলার একটা সময় গ্রামে বড় হওয়া। পরের জীবন নারায়ণগঞ্জে। তবে সেটা আজকের নারায়ণগঞ্জ নয়। তাই আমাদের সময় ফ্যাশন শব্দটিই অপরিচিত ছিল। চার বন্ধু মিলে ব্যবসা শুরুর পর পোশাক যখন বিক্রয়সামগ্রী হিসেবে জায়গা করে নেয় তখন থেকেই কাপড়ের প্রতি আস্তে আস্তে ভালবাসা জন্মায়। নিজেকে আমি ততটা ফ্যাশন সচেতন মনে করি না। তবে ফ্যাশন সম্পর্কে খোঁজ রাখি। অন্যকে ফ্যাশনেবল দেখতে পছন্দ করি। সেজন্যই রং বাংলাদেশের সংগ্রহকে সেভাবে তৈরি করতে মনোযোগী থাকি।

প্রথম যাত্রা শুরু কবে?

১৯৯৪ সালে।

ফ্যাশন দুনিয়াতে অবস্থান কেমন ছিল?

পাঠক তথা বাংলাদেশের ফ্যাশন সচেতনরা জানেন ফ্যাশন দুনিয়ায় আমাদের অবস্থান কেমন ছিল।

মডেলিং নিয়ে মনে পড়ার মতো স্মৃতি?

ফটোগ্রাফি আমার শখ। সেটা এখনও আছে। এ সময় নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য আমি মডেলিং ছবি তুলেছি। যেসব ছবি সে সময় জনপ্রিয়ও হয়েছিল। মনে পড়ছে প্রথম ছবি তুলেছিলাম বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নিপা আপার। এরপর খ্যাতিমান অনেকের শুটও আমি করেছিলাম। পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় সেইভাবে আর তোলা হয়নি ছবি।

কোন আক্ষেপ?

আক্ষেপ ছাড়া কোন মানুষ কি আসলে আছে? একদম শুরুতে মনে হতো আরও একটু গুছিয়ে শুরু করতে পারলে কতই না ভাল হতো। আর এখন মনে হয় শুরুর দিনগুলোকে যদি ফেরানো যেত।

ফ্যাশন কিভাবে উন্নয়নের সঙ্গী হতে পারে? ফ্যাশন নানাভাবেই উন্নয়নের সঙ্গী হতে পারে। এখনই তো আপনারা দেখছেন বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির উত্থানে কত মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশীয় ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে নানা পেশায় জড়িত রয়েছেন অন্তত ৫ লক্ষাধিক পেশাজীবী। এর একটা বড় অংশই আবার নারী। ফলে কেবল উন্নয়ন নয় নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলার কাজটাও করছে এই ফ্যাশন।

আপনার ছোটবেলার কথা কিছু বলুন।

আমার জন্ম ঢাকায়। বাবা কাজ করতেন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পুঁথিঘর লিমিটেডের ম্যানেজার পদে। এক সময় আমার খেয়ালি বাবার মনে হয় গ্রামে গিয়ে শিক্ষকতা করবেন। সেই গ্রাম বিক্রমপুরের ইছাপুরা। প্রায় একযুগ পর সেখান থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জ চলে আসেন। সেই থেকেই আমরা নারায়ণগঞ্জে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *