সবকিছুতেই রুচির ছোঁয়া

রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। মেয়ে প্রিয়দর্শিনী ও ছেলে অর্কের সঙ্গে এবার ঈদ উদ্‌যাপন করবেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। তিনি জানিয়েছেন নিজের ফ্যাশন, খাওয়াদাওয়া ও বিনোদনের সাত-সতেরো। লিখেছেন তৌহিদা শিরোপা

সব সময়ের জন্য নানা ধরনের সুতি শাড়ি পরলেও ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পরতে পছন্দ করেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। ছবি: সুমন ইউসুফফ্যাশন
রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নাম মনে এলে আমাদের চোখে ভাসে গীতিময় এক মুখ, শাড়িতে যিনি সদা স্নিগ্ধ। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে চলে তাঁর প্রতিটি দিন। না, একমুহূর্ত এদিক-সেদিক নয়। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ও নৃত্যকলা বিভাগের সভাপতি তিনি। আছেন রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘সুরের ধারা’র অধ্যক্ষের দায়িত্বেও। গানের অনুষ্ঠান কি অন্য কোথাও—সব জায়গাতেই পোশাক হিসেবে বেছে নেন শাড়ি। কেন শাড়ি তাঁর এত প্রিয়? এর পেছনে শান্তিনিকেতনের খানিকটা ভূমিকা আছে। এবার বাকি কাহিনি শোনা যাক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কাছ থেকে, ‘আমার বয়স তখন ১৭ হবে। হলিক্রস কলেজ থেকে সবে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছি। ভর্তিও হয়ে গেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। তবে আমার তো ইচ্ছা শান্তিনিকেতনে পড়ার। আব্বাকে রাজি করিয়ে অর্থনীতি বাদ দিয়ে রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে পড়তে গেলাম শান্তিনিকেতনে। সে সময় সালোয়ার-কামিজ পরতাম। কিন্তু ওখানে গিয়ে দেখলাম, মেয়েরা সবাই শাড়ি পরে। সেই থেকে আমারও শাড়ি পরা শুরু।’ তাঁর শাড়িরহস্য তো জানা গেল, কিন্তু ফ্যাশনশৈলী নিয়ে কী ভাবেন এই বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী?

প্রতিটি মানুষ তাঁর পরিবেশ ও ব্যক্তিত্ব বুঝে তার সঙ্গে মানানসই যা কিছু পরেন, তা-ই তাঁর স্টাইল—এমনটাই মত রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার। সব সময়ের জন্য নানা ধরনের সুতি শাড়ি পরলেও ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পরতে পছন্দ করেন তিনি। শিফন, গাদোয়ালের পাশাপাশি শীতকালে তসরও পরা হয়। আর শাড়ির সঙ্গে পরেন রুপা ও মুক্তার গয়না। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘আমার সাজপোশাক অনেকেই অনুসরণ করেন। বিশেষ করে আমার ছাত্রীরা। আমি যেহেতু শিক্ষক, ফলে রুচির ছোঁয়া রাখতে চেষ্টা করি সবকিছুতেই। আমার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানায় না, এমন কিছু আমি ব্যবহার করি না। গয়নাও তাই হালকা ধরনের বেছে নিই।’

খাওয়াদাওয়া
‘খাওয়া নিয়ে অত ভাবনাচিন্তা নেই। দেশি খাবার পছন্দ করি। ভাতের সঙ্গে ডাল-সবজি বেশি ভালো লাগে।’ খাবারদাবারের কথা উঠতেই বললেন এক টানে। আরও জানালেন, মিষ্টি খেতে খুব ভালোবাসেন। সকালে খান দুধ-চিনি দিয়ে চা, সঙ্গে মুড়ি। বাইরের খাবারের মধ্যে পছন্দ করেন থাই খাবার। ব্যস্ত থাকলেও চেষ্টা করেন দুপুরের খাবার বাড়িতে খেতে। কাজ থাকলে বাইরেই ফল বা বিস্কুট-জাতীয় কোনো কিছু খেয়ে নেন।

বিনোদন

রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার বিনোদন নানান রকম। বইপড়া, ঘোরাঘুরি, টিভি দেখা, গান শোনা, বাগান করা—কত কিছু আছে সেখানে! এই যেমন রাতের খাবার খেয়ে তিনি বসে যান টিভিতে ধারাবাহিক দেখতে। ১১টা পর্যন্ত দেখেন। তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরলে কিছুক্ষণ রেওয়াজও করেন। তবে ঘুমানোর আগে তাঁর হাতে একটা না একটা বই থাকা চাই-ই চাই। রবীন্দ্রনাথ প্রাসঙ্গিক যেকোনো বই, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের বই, দেশ পত্রিকা, কালি ও কলমবেশি পড়েন। বললেন, ‘ঈদসংখ্যা, পূজাসংখ্যার ম্যাগাজিনগুলো পড়তে ভালো লাগে। নানা রকম লেখাজোকা থাকে। একসঙ্গে অনেক লেখকের লেখার স্বাদ পাওয়া যায়।’ লোকসংগীত, ডিএল রায়ের গান, অতুলপ্রসাদের গান যেমন ভালোবাসেন তিনি, আবার গিরিজা দেবীর উচ্চাঙ্গসংগীতও তাঁর মনে প্রশান্তি এনে দেয়। অবসরে বারান্দা ও ছাদে নানা রকমের গাছের পরিচর্যা করেন।

ঘুরতে খুব পছন্দ করেন এই শিল্পী। সুযোগ পেলেই বেড়াতে চলে যান ছেলেমেয়ের কাছে, ‘সময় পেলে ঘুরি। একটু নির্জন, চুপচাপ জায়গায় ঘুরতে যেতে ভালো লাগে। কিছুদিন আগে গঙ্গোত্রী গিয়েছিলাম। ভালো লেগেছে। আর শান্তিনিকেতনে যাওয়া আসলে ঘুরতে যাওয়া নয়, ওখানে যাই নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করতে।’—শেষ বেলায় বললেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *