বাংলাদেশে যে কত সুন্দর সুন্দর মোটিফ আছে, তা সবারই অজানা

সময়টা ১৯৫৫ সাল। পটুয়া কামরুল হাসান তার সহধর্মিণী মরিয়ম বেগমের সঙ্গে শুরু করেন পোশাকের দোকান ‘রূপায়ণ।’ ‘সে সময় সবাই বম্বে প্রিন্টের দিকে ঝুঁকছে। অথচ আমাদের দেশে যে কত সুন্দর সুন্দর মোটিফ আছে, তা সবারই অজানা। নকশার ক্ষেত্রে এই নিজস্বতাটাকে জনপ্রিয় করে তোলার উদ্দেশ্যেই শুরু হয় রূপায়ণের যাত্রা’- বলেন মরিয়ম বেগম।

রূপায়ণের লোগো ডিজাইন করেছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান নিজেই
রূপায়ণের লোগো ডিজাইন করেছিলেন পটুয়া কামরুল হাসান নিজেই

তবে শুরুর সময়টা ছিল ভীষণ কঠিন। এখনকার মতো জমজমাট ফ্যাশন হাউজের ধারণা সে সময় ছিল না। ছিল না ব্লক প্রিন্ট, স্কিন প্রির্ন্ট বা বাটিকের কাজ শেখার কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ইনস্টিটিউট। সে সময় শিল্পী কামরুল হাসান সহজ কৌশল হিসেবে আলু ব্যবহার শুরু করলেন ব্লকের ডাইস হিসেবে। রঙ হিসেবে ব্যবহৃত হতো পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডের একটি দোকানের রঙ। সেই রঙ কিনে বই পড়ে পড়ে বানানো শিখে তবেই কাপড় রাঙানো হতো। বহু কষ্টে দশ পনেরোটা শাড়ি তৈরি করা হলো প্রথমে। মরিয়ম বেগম এই শাড়িগুলো পোটলা বেঁধে সপ্তাহে দুদিন নিয়ে যেতেন রোকেয়া ও শামসুননাহার হলের সামনে। আলু ও লাউয়ের বোঁটা দিয়ে ব্লক করা এক একটা শাড়ির মূল্য তখন দশ টাকা থেকে সর্বোচ্চ বারো টাকা। লাভ ৫ শতাংশ।

এরই মধ্যে কাঠের নকশা খোদাইয়ের লোক মিলে গেল নবাবপুরে। এরপর নকশায় আসতে শুরু করলো বৈচিত্র্য। একই সঙ্গে দিন দিন এই কাপড়ের চাহিদাও বাড়তে থাকলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণী থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠলো এই শাড়ি। বেশিরভাগ শাড়ি হতো সাদা জমিনের মধ্যে, আঁচল ও পাড়ে থাকতো নকশা। নকশায় থাকতো ফুল, লতাপাতা। কখনও কখনও কলসি কাঁখের মেয়ে বা জ্যামিতিক নকশাতেও সেজে উঠতো শাড়ি। নকশাগুলোর আবার সুন্দর সুন্দর সব নামও ছিল; যেমন কলাবতী, শকুন্তলা বা জামদানি। শাড়িগুলোর এতই চাহিদা ছিল যে তৈরির আগেই বিক্রি হয়ে যেত।

মরিয়ম বেগম জানান, পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি থেকে ষাটের দশক ও সত্তরের দশকেও এসব নকশার চাহিদাও ছিলো তুঙ্গে। ধীরে ধীরে নবাবপুরে নিজ বাড়িতে পুরোপুরি বাণিজ্যকভাবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কাপড় প্রিন্টের ফ্যাক্টরি। নিউমার্কেটে শুরু হলো রূপায়ণের শোরুম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *