মুটিয়ে গেলেও চলবে ফ্যাশন!

   হলিউডের অভিনয়শিল্পী মেলিসা ম্যাকার্থি (সামনে) এনেছেন ভারী গড়নের সঙ্গে মানানসই ফ্যাশনেবল পোশাক। ছবি: ইন্টারনেটনতুন পোশাক কিনতে গেলেই মন খারাপ! এসব পোশাক যেন বানানোই হয়েছে ‘সাইজ জিরো’ ফিগারের অধিকারীদের জন্য। একটু ভারী গড়ন হলে কি এসব মানাবে? কোথায় পাই তবে মানানসই পোশাক? আর পোশাকটা মনমতো না হলে সাজ নিয়ে ভেবে কী লাভ?
আমাদের দেশে ভারী গড়নের অধিকারীদের মানানসই পোশাকের আলাদা কোনো দোকান নেই। পাশ্চাত্যে যেমন চালু আছে ‘প্লাস সাইজ’ ফ্যাশন। সম্প্রতি হলিউডের অভিনয়শিল্পী মেলিসা ম্যাকার্থি চালু করেছেন এ রকম পোশাক সংগ্রহ।
ফ্যাশন দুনিয়ায় বেশ প্রশংসাও পাচ্ছে তা। (সূত্র: ইটি অনলাইন)
এ দেশে এমন উদ্যোগ দেখা না গেলেও একটু খুঁজে পেয়ে যাবেন নিজের গঠনের সঙ্গে মানানসই পোশাক। তবে সে জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখা চাই।
দেহের গড়ন হলোই-বা একটু ভারী, তাই বলে ফ্যাশন ভাবনাতে কি পিছিয়ে যেতে হবে? অবশ্যই না। মুটিয়ে গেলেই সৌন্দর্য ফুরিয়ে যায় না, কেবল কিছু বিষয়ের দিকে নজর রেখে ফিটফাট চলতে পারলেই হলো। ফ্যাশন ডিজাইনার বিপ্লব সাহা বলেন, ‘অতিরিক্ত মেদ কখনোই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাই অবশ্যই ফিটনেস বজায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। যাঁরা একটু মুটিয়ে গেছেন, তাঁদের নিজের সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।’
তবে ফ্যাশনে তাঁরা পিছিয়ে থাকবেন না। শুধু পোশাক নির্বাচন করার আগে ভাবতে হবে, কোন পোশাকটা পরলে নিজের কাছে আরাম লাগবে এবং অন্যের চোখেও ভালো দেখাবে। খুব শকিং বা উজ্জ্বল রং যেমন কমলা, গোলাপি এসব না পরে গাঢ় রং বাছাই করাই ভালো। ওপর থেকে নিচে লম্বালম্বি ডোরার নকশা করা পোশাক পরলে ভালো দেখায়, আড়াআড়ি ডোরাতে আরও মোটা দেখাবে। বড় বল প্রিন্ট অথবা বড় বড় নকশা করা কাপড় না পরাই ভালো। পোশাক যেন খুব বেশি আঁটসাঁট বা ঢিলেঢালা না হয় সেদিকে লক্ষ্যে
রাখতে হবে।
ছেলেদের জন্যও পরামর্শ দিলেন বিপ্লব সাহা। তাঁর মতে, টি-শার্ট বেশ মানানসই ও আরামদায়ক। তবে শার্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় বড় চেক এড়িয়ে যাওয়া ভালো। খাটো বা খুব লম্বা পাঞ্জাবির বদলে মাঝারি সাইজের পাঞ্জাবি ভালো মানাবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে শাড়ির পাড়ের চওড়া যেন পাঁচ ইঞ্চির বেশি না হয়। ফ্রক কাটের কামিজে অনেক বেশি কাপড় থাকে, তাই আরও বেশি মোটা দেখা যায়। খুব ছোট হাতা না পরে, থ্রি-কোয়ার্টার হাতা পরা ভালো। তবে হাতা যেন ফিটিং হয়। হাইকলার বা বন্ধ গলার পোশাক না পরাই ভালো। আবার খুব বেশি পিঠ দেখা যায় এমন হলেও হবে না, মাঝামাঝি হতে হবে। সালোয়ার চুড়িদার অথবা কম ঘেরের হলে ভালো দেখাবে। জিনসের সঙ্গে খাটো ফতুয়ার দিকে না যাওয়াই ভালো। খুব ভারী না বরং হালকা গয়না ভালো মানাবে। তবে কেউ যদি নিজেকে ঠিকঠাক মতো গুছিয়ে চলতে পারেন তবে যেকোনো পোশাকই তার ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানিয়ে যাবে।
এ তো গেল পোশাকের কথা, সাজ কেমন হবে? এ প্রসঙ্গে রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান বলেন, খোলা চুল হলে ছেড়ে রাখলে ভালো দেখাবে। ব্যাংস বা অন্য কোনো কাট করে চুল দিয়ে মুখের কিছু অংশ ঢেকে রাখা যেতে পারে। ফোলা চুলের ক্ষেত্রে বেঁধে রাখাই ভালো অথবা আয়রন করে ছেড়ে রাখা যায়। সাজটা যেন স্নিগ্ধ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ম্যাট ধরনের মেকআপ ব্যবহার করতে হবে। বড় করে টেনে কাজল না দেওয়াই ভালো। মোটা করে চোখের নিচে কাজল দিয়ে ব্রাশ দিয়ে একটু মিশিয়ে নিলে দেখতে বেশ ভালো লাগবে। ভ্রু বেশি চিকন করা যাবে না। ব্লাশন লাগানোর সময় ভালো করে মেশাতে হবে। খুব বড় টিপ নয়, বরং গোল মুখের জন্য লম্বা টিপ ভালো মানাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *